Friday, October 25, 2019

আসল রত্ন



প্রমোদ ভ্রমণে বেরিয়ে এক আরব বণিক-প্রবর,
হাটের মাঝে দেখতে পেল একখানা উট জবর। 
কভু সে দ্যাখেনি এত সুন্দর অতি মনোহর উট, 
সাচ্চা হীরে, দেখলে লাগে বাকি সবকিছু ঝুট। 
বহু দর করে উট-পসারীরে দিল আশরফি দুই 
প্রফুল্ল মনে বাড়ি ফিরে আসে আরবের ব্যবসায়ী।
মোর সংগ্রহে আছে যত প্রাণী, ছাগ, হয়, উট, মেষ;
সবচেয়ে সেরা এই উট খানি, সন্দেহ নাই লেশ। 
গদি আঁটা এক আসন বাঁধা ছিল যে উটের পিঠে; 
নক্সাকাটা জমকালো খুব, রংটিও বেশ মিঠে। 
ভৃত্যেরে ডেকে বললো বণিক, "খুলে দে আসনখানি,
ভালো করে এরে গোশল করিয়ে খেতে দিস দানাপানি।" 

অনেকদিনের পুরানো বাঁধন, সহজে সে কি রে খোলে?
বহু চেষ্টায় গদিখানা তার খানিক আলগা হলে, 
টেনে ধরে জোরে; পড়ে যায় ভূমে, গদিখানা হাতে নিয়ে,  
সামলে নিজেকে উঠে পড়ে দ্যাখে, এ কি পড়ে আছে ভূঁয়ে? 
গদির তলায় লুকোনো ছিল ছোট মখমলী থলি;
এই ক্ষনে তাই প্রকাশিত হল নজরেতে এল চলি। 
নিশ্চয় প্রভু ভুলে গেছে তার থলিখানি নিতে সনে;  
ভৃত্য মনিবে ডাকে এই ভেবে, জিজ্ঞাসা ভরা মনে।
খোলে থলিখানি খুব সাবধানে, অতি উৎসাহী চিতে;
হাজার আলোর রোশনায়ে চোখ ধাঁধাঁয় আচম্বিতে।
বাকহারা প্রভু - ভৃত্য দুজনে, চমক ঊর্ধগামী;
থলের ভিতর রংবেরঙের রত্ন প্রচুর দামী!
রবির কিরণে ঝকমক করে, ঠিকরে পড়ে আলো,
অসাধারণ রত্নরাজি মনোহর জমকালো!
উত্তেজনায় থরথর কাঁপে হৃদয় উল্লসিত,
একে অপরের মুখপানে চায়, বিস্ময়ে বিহ্বলিত!
"এ ধন আমার নয়", বণিক নীরবতা ভেঙে কয়,
"আসন সহ উট কিনেছি আর কোন কিছু নয়।
এই সম্পদ এখনই ফেরাব উট কিনেছি যেথা"
চললো বণিক হাটের পথে খুঁজে উট বিক্রেতা।
ভীত বিহ্বলিত ভৃত্য ভাবে, মালিক বড্ড বোকা!
"কেউ জানবেনা প্রভু, এ'নয় ইচ্ছাকৃত ধোঁকা।"

না শুনে কোন বারণ, বণিক, সটান হাজির হাটে,
ফেরত দিল মখমলী থলি উট পসারীর হাতে।
উট বিক্রেতা অবাক হয়ে তাকায় দু-চোখ মেলে!
"লুকিয়ে রেখেছি বহুদিন আগে - নিরাপদ গদিতলে।
এ'ধন আমি ভুলে গেছি তাই, উট বেচিবার কালে;
হয়েছি বড়ই খুশী, মহাশয়; ফেরৎ এনেছ বলে।
বেছে নাও তুমি মনের মতন যেকোন একটি রত্ন,
ইনাম না দিলে, সাচ্চা দিলের বাকি থেকে যাবে যত্ন।
বললো বণিক, "উচিত দামে-তে কিনেছি শুধুই উট;
পুরস্কার তো পারবোনা নিতে এইভাবে ঝুটমুট।"
"ছিলনা মনে রত্নের কথা লুকোনো উটের পিছে,  
তুমি না ফেরালে, মহার্ঘ্য ধন বিলকুল হতো মিছে।"
বহু অনুরোধ করে বিক্রেতা পুরস্কারের তরে,
বিনীত বণিক হয়না রাজি, ফেরায় বিক্রেতারে।
অবশেষে, ভীরু লজ্জিত স্বরে বলে, "নিয়েছি দেখে,
সবচেয়ে দামি দুখানি রতন, তব ওই ঝুলি থেকে,
সংকোচে আমি বলতে পারিনি ওগো উট বিক্রেতা!
বিদায় দাও এই বণিকেরে আর বাড়িওনা কথা"
স্তম্ভিত হয় উট বিক্রেতা - বণিকের কথা শুনে;
হাতের থলি উপুড় করে রত্নরাজি গুনে;
বার বার গুনে বুঝিতে না পারে, কেমনে এ সম্ভব?
একটিও হিরে হারায়নি, আছে আগের মতই সব!
"বণিক মশাই বুঝিয়া না পাই, কি নিয়েছ দুই খান?"
লাজুক হেসে বললো বণিক, "সততা ও সম্মান।"

Monday, October 21, 2019

মনের রঙ

দাদু বলে আমার নাকি অবুঝ সবুজ মন;
প্রজাপতি, ফড়িং ধরি, 
ধুলো, বালির কেল্লা গড়ি,
সবুজ গহন মনের মাঝে লুকিয়ে গুপ্তধন! 

ঠাম্মি বলে মনটা আমার এক্কেবারে সাদা 
রাজকন্যার গল্প শুনে 
পাতালপুরী, সাগর, বনে 
হটাৎ করে কখন যেন ঘুমিয়ে যে হই কাদা। 

ছোট্ট দিদি নালিশ করে মনটা আমার কালো; 
আমি নাকি ঝগড়া করি, 
ভাবের থেকে বেশি আড়ি, 
সবার চেয়ে দস্যি তবু সবাই বাসে ভালো! 

বাবা বলে মনটা আমার আকাশের মত নীল;
মনের মাঝে সদা কেন, 
ভাসে অলীক স্বপ্ন, যেন 
আকাশ জুড়ে উড়ে বেড়ায় পায়রা, শালিক, চিল। 

মায়ের কাছে মনটা আমার রাঙা রবির মত;
একগুঁয়ে আর বড্ড রাগী 
সবাইকে খুব ব্যস্ত রাখি 
না ঘুমোলে আমায় সওয়া শক্ত জানো কত? 

সবার কথা শুনে ভাবি; রঙিন আমার মন, 
কিন্তু আমি পাই না খুঁজে, 
কোনো রংই দেখি না যে, 
কেমন করে দেখতে পাবো মনের গহীন কোন!  

Tuesday, October 08, 2019

অসুরদলনী

দুর্গতিনাশিনী তুই আবার আসিস মা;
ছেলে, মেয়ে, বাহন সঙ্গে নিয়ে;
অসুরটাকে খুব কি তোর দরকার?
পরের বারে আসিস বিদেয় দিয়ে।

এই সমাজে দেখি অসুর যত;
বহাল তবিয়তে আছে তারা।
উদ্যত তোর ত্রিশূলখানির ঘায়ে
একজনও কেউ যায়না কেন মারা?

বাজিয়ে ঢাক, জ্বালিয়ে ধুপ আর ধুনো,
যারা তোরে বছর বছর পূজে;
তাদের ভিড়েই লুকিয়ে সকল অসুর
কেন তাদের পাসনে মা তুই খুঁজে?

লুঠছে অসুর নিজের মাতৃভূমি,
দুর্নীতিতে ফোঁপরা করে দেশ,
ধর্মান্ধতা-বিষ ছড়িয়ে অসুর
শান্তি, মৈত্রী জ্বালিয়ে করে শেষ।

জাতপাতের বিভেদ-প্রাচীর তুলে,
মানবতার লাঞ্ছনা দেখি কত;
অসুরেরাই ভোগ করে বসুধা
সত্ত্ব-গুণের লাঞ্ছনা অবিরত।

লাঞ্ছিত করে, পাচার করে শিশু,
নাবালিকা, নারী; নেই কোন মনঃতাপ;
পণের দাবিতে পুড়িয়ে মারে বধূ
ঘরে ঘরে দেখি অসুরেতে ছয়লাপ।

কন্যা ভ্রূণের হত্যালীলা চলে,
নবজাতিকারে ত্যাজে, অথবা মারে;
বুড়ো বাবা মা-র শেষ সম্বল কাড়ে,
অসুরেরা দেখি ফিরে আসে বারে বারে

যাওয়ার আগে এই বর দে মাগো,
প্রতি ঘরেই দুর্গা যেন জেতে;
আসছে বারে তোর পুজোতে যেন
সকল দুর্গা উঠতে পারে মেতে।

সবার মনের অসুরগুলো মরুক,
সদ্ভাবনার ত্রিশূল-আঘাত পেয়ে,
এই আশাতেই পরের বারের তরে,
রইব মোরা তোর পানেতে চেয়ে।

Sunday, July 28, 2019

শ্রেষ্ঠ ধৰ্ম

মত যত, পথ তত, শুনেছি তো অবিরত,
তবু কেন ভুলে যাই বার বার!
সব পথ অবশেষে, একসাথে গিয়ে মেশে,
সকল ধর্মের একই সার।।

আমার পথই সেরা, ভাগ করি চুলচেরা,
পরধর্মের করি বদনাম।
মানুষে মানুষে এই, ভেদাভেদ করে যেই,
এ জগতে নাই তার কোনও দাম।।

জাত নিয়ে টানাটানি, অকারণ হানাহানি;
উঁচু, নীচু, ছোট, বড় বিভাজন।
মানুষে মানুষ মারে, নিদারুণ অকাতরে;
হিংসার নাই কোনো নিবারণ।।

ধর্মের যাঁতাকলে, পিষে মরে পলেপলে,
কিসে ভালো তবে এই ধর্ম?
জাত সে তো নয় বড়, ধর্মও নয় দড়;
সবচেয়ে বড় জেনো কর্ম।

ধর্মের গোঁড়ামিতে যে মানুষ নিমজিতে
তার থেকে দূরে ভাই থাক রে,
সমাজের শত্রু সে; বিষধর আশিবিষে
দংশিতে যেন আর না পারে।

অন্যায় নিরবধি, ধর্মকে করে যদি
সব অপকর্মের বর্ম।
ধর্ম সে জেনো মিছে, থাকুক সে পড়ে পিছে;
মানবিকতা শ্রেষ্ঠ ধৰ্ম।।



Hima The Lightning

Won five golds in eighteen days!!!
What an astonishing rage
Towards run, you embrace.
We salute you Dhing Express!!!

You enthralled the crowd,
And made the country proud
From a small town of Assam.
Inspire a million to blossom!!!

অশনি সংকেত

মেঘ ও রোদের লুকোচুরিতে আলো ছায়া করে খেলা;
কখনও ঘন কালো মেঘরাশি আকাশে বসায় মেলা।
ফুটিফাটা হল চাষের জমি, শুকনো পুকুর নদী;
চাতকের মত চেয়ে আছি তাই, বৃষ্টি নামে যদি।
রথযাত্রায় এলনা সে যে, উল্টো রথেও রুখা;
আষাঢ়ের শেষে শ্রাবণ এল, সবকিছু তবু শুখা।
ভ্যাপসা গরম, ঘেমে হরদম, হাঁসফাঁস করি সবে,
শ্রাবণ মাসে কাঠফাটা রোদ কে দেখেছে কবে?
প্রকৃতি আজ হয়েছে বিরূপ, ঋতুরা বাঁধন হারা,
স্বখাত সলিলে মানুষ ডোবে, ধংসের গ্রাসে ধরা।

Life

Toppled from boat in storm, afloat five days in sea;
Only rain to drink and air to feed but nowhere to flee.
Salty waves whip in day, fishes bite in night!
Oh god, will there be no end to this plight?

There comes the angel, a foreign merchant ship;
Death is defeated by a whisker, like a miracle in grip!!!

Wednesday, December 24, 2014

চোরাবালি

'কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায় ও ভাই রে!'
মন্ত্রীমশাই হাসপাতালে,
ঘিরে রাখে ডাক্তার দলে;
আসলে তার রোগ তো কিছুই নাই রে!

'কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায় ও ভাই রে!'
মরণাপন্ন রুগীর তরে'
অজুহাতের পাত্র ভরে,
তার তো দেখি নেই যে কোনো ঠাই রে।

'কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায় ও ভাই রে!'
রাজনীতির এই  যাঁতাকলে
এমনধারা যদি চলে  
তুচ্ছ মোরা কোথায় তবে যাই রে।

'কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায় ও ভাই রে!'
লোভে পাপ আর পাপে মৃত্যু
(তবু) এই কথাটা ভুলি নিত্য
ক্ষমতার চোরাবালিতে সবাই তলাই রে।

Thursday, November 27, 2014

নারীর মুক্তি

বিশ্ব জুড়ে চলছে এক নির্লজ্জ, বিকৃত প্রতিযোগিতা;
কত নৃশংস, নির্মম হতে পারে নারী-অবমাননা।
খবর-কাগজ, সোশ্যাল-মিডিয়া কিংবা টিভির পর্দা,
দেখি সবেতেই হাজির তার বিরামহীন বার্তা।
নারী-প্রগতি, নারী-মুক্তি কপচানো নেতা যত,
নারীলাঞ্ছনা আসলেতে এক হাতিয়ারের মত।

ঘটলে এমন 'দুর্ঘটনা', নিন্দা আর সমালোচনা
প্রকাশ্যেতে সবাই করে, করে নিদারুন শোক
তবে কারা এই লাঞ্ছনাকারী? সবাই আসলে মুখোশধারী।
সুযোগ পেলেই মুখোশ খুলে বের করে দাঁত নখ

প্রচার-লোভী বুদ্ধিজীবি, পরজীবী সমাজসেবী
ঝগড়া করে, জাবর কেটে কাঁপিয়ে তোলেন বাড়ির টিভি
জানাই তাদের সবিনয়ে, রক্ষা করতে নারীর মান
এসব-ই কি করেছিলেন? বিদ্যাসাগর, রামমোহন

কঠিন এই সমাজ-ব্যাধি, সহজ নয়কো নারীর মুক্তি;
পুরুষ নারী নির্বিশেষে বুঝতে হবে অমোঘ যুক্তি।
ছোটো থেকেই প্রতি ঘরেই নারী যেন পায় সমান-মান,
শুধু এই 'শিক্ষা'-ই করতে পারে নারীলাঞ্ছনা-র অবসান।
এর অন্যথা হলেই জেনো সারবে না এই অসুখ-ভারী
তুমি আমি না পাল্টালে, পারবে না কোনো ক্রান্তিকারী।

Friday, October 03, 2014

শুভ বিজয়া

ঢাকে পড়ল কাঠি
প্রাণ পেল মাটি।

নতুন জামা গায়
কচি-কাঁচা ছুটে যায়।

বউ সাজে কলাগাছ
(চল) ঠাকুর দেখবো আজ।

আড্ডা জমজমাট
যেন চাঁদের হাট।

অঞ্জলি দিই সবে
জগতের ভালো ভেবে।

মানুষে দেবতা খুঁজি
কুমারী-দেবী পুজি।

ধুনুচি নিয়ে নাচ
(মাতে) পঁচাশি থেকে পাঁচ।

এলো বিদায়ের বেলা
এয়োর সিঁদুর খেলা।

রাগ দুঃখ ভুলি
(করি) বিজয়ার কোলাকুলি।

মা ভাসলো জলে
নীলকন্ঠ উড়ে চলে।

বলো দূর্গা দূর্গা
আবার এসো মা। 

Monday, September 22, 2014

মহালয়া

সবুজ ধানে ঢেউ খেলে যায়, পদ্মকলি হাই তোলে;
শিউলি ফুলের গন্ধ মাখা মিষ্টি হাওয়া দ্বার খোলে।

ফুড়ুত ওড়ে চড়ুই পাখি, শালিক লাফায় খড়ের চালে;
ধানের শীষে গঙ্গাফড়িং নাচছে যে কোন অচীন-তালে।

পূব-আকাশে সোনার বরণ, ঘাসের ডগায় হীরের ফুল;
কাশের বনে মাতন জাগে, ছলাত ছলাত নদীর কুল।

ধায় দেখো ওই রেলের গাড়ি তেপান্তরের বুক চিরে,
এখন ছুটি সব কাজেরই ঘরের মানুষ ঘর ফিরে।

আকাশ জুড়ে রামধনু ওই স্বপ্ন-লোকের কল্পনা,
পেঁজা তুলোর মেঘ এঁকে যায় আনকোরা সব আলপনা।

কোঁচড় ভরে শালুক তোলে নদীর ঘাটে এক মেয়ে,
নৌকা চলে উজান পানে আগমনীর গান গেয়ে।

আয় ছুটে আয় সবাই, মোরা আনন্দেতে গান গাই,
মা আসছেন মা আসছেন আর একটুও দেরী নাই।

ভোর বেলাতেই বেতারে'তে চির-নুতন 'বীরেন ভদ্র',
'আশ্বিনের শারদ প্রাতে' আকাশ জুড়ে মেঘ-ও-রৌদ্র।

পিতৃ-পক্ষ অবসান হলো এবার জাগবে মহামায়া;
দেবী-পক্ষের শুভ-সূচনায় মহাপূজার মহালয়া!


Thursday, July 17, 2014

মাওবাদী

অনেক কাল পরে এখানে এসেছে বহু-প্রতিক্ষিত 'পরিবর্তন'   
শরতের কুয়াশা-ভেজা রৌদ্রজ্জ্বল এক সুন্দর সকালের মত
মন ভালো করে দেওয়া একটা পরিবর্তন।
যেখানে থাকবে না কোন অন্যায়, স্বজন-পোষণ,
দুর্নীতি, সেচ্ছাচারিতা আর হিংসা;
মারামারি, ভেদাভেদ ভুলে তৈরি হবে সুখ-শান্তি-উন্নতির আবহ,
মানুষ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করবে স্বর্গের আস্বাদ।    
 
তবে কেন দেখি প্রতিবাদের কন্ঠরোধ?
নির্লজ্জ ফুর্তির মোচ্ছবে চাপা পড়ে যায় আর্তের হাহাকার, 
হিংস্র শ্বাপদেরা ঘুরে বেড়ায় নির্ভয়ে;
অশ্রাব্য হুমকি-তে হাড় হিম করা আতঙ্কের স্রোত নামে শরীর জুড়ে
নির্যাতিতার কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে রুদ্ধ বাতাস।
ক্লেদাক্ত পঙ্কিল রাজনীতি, ক্ষমতা ও ঔদ্ধত্যের কুম্ভীপাকে
নাভিশ্বাস ওঠে নিরুপায় শান্তিপ্রিয় মানুষের।  

কেউ কেউ অবশ্য বোঝাতে চায় -
আগেও এসব ছিল - অনেক বেশি 'মাত্রা'য়
তার 'প্রেক্ষিত'-ও ছিল অন্য।
তুচ্ছ এই ঘটনা-গুলো এত বড় পরিবর্তনের তুলনায় কিচ্ছু নয়
পরিবর্তনের গরিমা-কে কলঙ্কিত করার নিছক অপচেষ্টা মাত্র।
সেরা মোসাহেবরা পুরস্কৃত হয় বিবিধ সম্মানে
চাটুকার ছাড়া শাসক কতো অসহায় - পরিবর্তন কই এর?
পরিবর্তন এক্কেবারে যে হয়নি তাও নয়
তাইতো আজ প্রতিবাদীর নাম হয়েছে মাওবাদী।
 

Monday, June 16, 2014

ব্রাজিল ২০১৪

ফুটবল, ফুটবল, চলছে খেলা;
বাছা দেশ বাছা দল, তারার মেলা।
কেউ বলে নেইমার, কেউ মেসি-ফ্যান
সারাদিন তাই নিয়ে চলে ঘ্যান ঘ্যান;
কারো মতে জার্মানি, স্পেন কারো মতে
Football 2014
বেলজিয়াম, ঘানা আছে কারো সাথে।
পেলে নাকি মারাদোনা - কে সবার সেরা
তর্কের শেষ নেই যুক্তির ফেরা।
রাত নেই দিন নেই ঘুম নেই চোখে
সব কাজ ফেলে সব ফুটবল দ্যাখে;
পেনাল্টি ফ্রি-কিক্ -এ তেঁতে ওঠে মাঠ
ফেসবুক টুইটারে আড্ডা জমাট।
অফসাইড, হ্যান্ড-বল, ফাউল বিচ্ছিরি
হলুদ আর লাল কার্ড দ্যাখে ভুরি ভুরি।
লং-শটে ডিফ্লেক্ট, হেড দিয়ে গোল
কেউ হাসে কেউ কাঁদে কেউ করে গোল।
কেউ দেখি অনায়াসে গোল দিয়ে যায়
সারামাঠ ছুটে কেউ গোল নাহি পায়।
কেউ উল্লাস কেউ হাহাকার করে;
কেউ দেখি চুপচাপ - চোখে জল ভরে।
খোকা-খুকী, বুড়ো-বুড়ি - সবে ওঠে মেতে
আনন্দে ভেসে যায় যদি ট্রফি জেতে;
এত মজা এত খুশি কোথা পাবে আর
ফুটবল বেঁচে থাকো এসো বার বার।



Monday, June 09, 2014

তোমায় ভেবে

তোমায় ভেবে দিন যে আমার কাটে অফিস বাজার কিম্বা রাস্তা ঘাটে;
কাকভোরেতে ভেঙেছো মোর ঘুম, কখন জানি সূর্য্যি গেছে পাটে।

মন বসেনা একটা কোনো কাজে সদাই তুমি বসে মনের মাঝে
সামনে এসে একটু দাঁড়াও যদি, মিষ্টি হেসে রাঙিয়ে দু'গাল লাজে।

হাঁটলে নাহয় দুই পা আমার সাথে প্রাসাদ ছেড়ে তরুছায়া পথে
বললে নাহয় একটা দুটো কথা, ক্ষতি তোমার খুব কি হবে তাতে?

কালো হয়ে আসছে আকাশ কেমন, মনে হয় যেন বৃষ্টি নামবে জোরে
উতল হৃদয় স্নিগ্ধ শীতল হবে তোমার সঙ্গে ভিজব পরাণ ভরে।

সন্ধ্যা হলে কুলায় ফিরবে পাখি ঘুমের কোলে ভুলবে দুঃখ-সুখ
নীরব রাতের আকাশ জুড়ে শুধু, থাকবে জেগে তোমার চন্দ্র-মুখ।

আমার এখন নিদ্রা বিহীন রাত, একটু পরেই আবার সকাল হবে
তোমায় ভেবে দিন যে আমার কাটে, আসবে তুমি আমার কাছে কবে?



 

Monday, May 19, 2014

দেশের বিকাশ - ২

অনেক দিনের পরে, সবে ভাবে অবশেষে,
নয়া সরকার গড়ে; বিকাশ আসবে দেশে।

নেতা ভাবে সোত্সাহে সুযোগ এসেছে দ্বারে,
বিকাশ - খুঁড়োর কল, (আগে) চুষে খাই দেশটারে।

ব্যবসায়ী আশাবাদী - মুনাফা বাড়বে আরো,
কর ফাঁকি দাও তেড়ে, ভেজাল মিশিয়ে মারো।

কাজ নেইকো হাতে, বন্ধ যে কারখানা;
(তবু) শ্রেণীসংগ্রাম নামাবলী গায়ে শ্রমিকের জঙ্গীপনা

ঘুরপথে পাই চাকরি, করবো কেন কাজ?
মাইনে-টা তো প্রাপ্য - ঘুষ নিতে নেই লাজ।

টুকলি-ই সার বস্তু - পড়ে সময় নষ্ট ,
পাশ করাতে হবেই স্যার, নইলে পাবে কষ্ট।

মুখের ওপর ধোঁয়া ছাড়ি, রাস্তায় ফেলি থুতু,
নিয়ম মেনে চলতে গেলে পায়যে কাতুকুতু।

রাস্তাঘাট নোংরা করে সরকারে দেই দোষ;
প্রতিবেশীর সুখ দেখলে হয় বড় আফশোষ।

সবাই মিলে ফাঁকি দিলে বিকাশ আসবে কবে?
আলাদিন-ই শেষ ভরসা সরকার আসবে যাবে।

 

দেশের বিকাশ - ১

গঙ্গার জল বয় অবিরত, বাকি সব থেমে ছবির মত;
দমবন্ধ করা হাঁসফাঁস, কিভাবে হবে দেশের বিকাশ?

দুর্নীতি আর অপসংস্কৃতি, অচলায়তনের প্রতিকৃতি
নরমের যম, শক্তের দাস; কখনো কি হবে দেশের বিকাশ?

জাত-ধর্মের অন্ধ-নীতি, প্রাদেশিকতা, ঘৃণা, ভীতি;
কালো মেঘে ঢাকা রাতের আকাশ, কে করিতে পারে দেশের বিকাশ?

যায় দেখা ওই আলোক শিখা, সত্যি সেযে - নয় মরিচীকা;
হঠাত্ খুশির জন-উচ্ছাস, এবার হবে দেশের বিকাশ।

প্রতীক্ষার হল অবসান, জনতার তরে সেরা বরদান
নুতন সূর্য হয়েছে প্রকাশ, শুরু হয়ে গেল দেশের বিকাশ।
 

Tuesday, March 25, 2014

ভোট

হই হই করে ভাই এসে গেল ভোট, 
তাই দেখি দলে দলে পাকায় যে ঘোঁট।
সবে বলে, আমি সেরা বাকিসব বাজে, 
ভোট দিলে আমাদের, তবে দেবে কাজে। 
কংগ্রেস বলে- দেশে আসবে প্রগতি, 
তাই মোরে ভোট দিও নাহলেই ক্ষতি। 
এতদিন ধরে দেখো কি করেছে হাল,
দেশ গেল রসাতলে সামাল সামাল; 
এরপরে কেউ ওরে ভোট দেয় যদি
দেশ যাবে রসাতলে হাঁক ছাড়ে মোদী। 
মোদী রাহুল সব-ই এক দুজনেই পাজি 
অরবিন্দ-ই তাই আম আদমী-র বাজি। 
মুলায়ম, মমতা, মায়া আর জয়া; 
বলে সবে- আমি পাব জনতার দয়া। 
কে জেতে কে'বা হারে জানা যাবে পরে;
জনগণ ভোট দিও বিবেচনা করে।
ধনরাশি এত এত তবু মোরা দীন,
নেতা আর চ্যালা তার বাড়ে দিন দিন;
ভোটের আগে এসে তোসামোদ করে,
ডুমুরের ফুল দেখি ভোটে জেতার পরে;
দেশ গড়ো সাজা দাও এই সব শঠে, 
নিশ্চই ভোট দাও এবারের ভোটে।

Tuesday, March 04, 2014

সংগ্রামের পাঠ

আততায়ীর বুলেটে লুটায় দেহ রক্তে ভাসে ইন্সপেক্টর তাপস 
কলেজ ভোটের পাহারায় অবিরত করেনি সে কোনরকম আপস    

সকালবেলা বেরিয়েছিল অফিস  যেমন বেরোয় প্রতিদিন-ই হেঁটে 
সন্ধ্যায় ফেরে কফিনবন্দি দেহ ঠাকুরপুকুরে দোতলা বাড়ির গেটে 

নিঝুম পাড়ায় উপচে পড়ে ভিড়; বউ ছেলে মেয়ে, মাথায় পড়ে বাজ
এই রবিবারে সবাই যাবে পুরী ঠিক হয়েছিল সকালবেলা আজ 
শুভানুধ্যায়ীর সমবেদনার হিড়িক - সরকার দেয় চাকরির আশ্বাস
বিরোধীরা বলে শাসকের প্রশ্রয়ে এই বাংলায় অপরাধীর পৌষমাস  

রাজনীতির এই নোংরা রেষারেষি - বলি যায় কত তাজা নির্দোষ প্রাণ 
আর কত গুলো লাশের মিছিল হলে সাঙ্গ হবে এই রক্ত-স্নান?
শাসক-বিরোধী সবাই চায় জিততে, হারুক তাপস শত শত কালে কালে  
এই ব্যাপারে সব দল-ই একমত, রাজনীতি যেন থাকে রাজার হালে   

কেটে গেছে মাঝে অনেককটা দিন, মেয়ে এখন পুলিশে চাকরি করে
তিনটে প্রাণ-এর হৃদয়ে থাকে তাপস অন্য সবাই ব্যস্ত নিজের তরে

তাপসের বউ পাষাণ প্রতিমা আজ শক্ত চোয়াল মুষ্ঠিবন্ধ হাত  
বাঁধ মানে না চোখের নোনা জল - শূন্যতা দেয় সংগ্রামের পাঠ

Friday, February 21, 2014

২১-শে ফেব্রুয়ারি

কথা বলি গান গাই
ভাষা ছাড়া গতি নাই
ভাষা হোক তব ভালবাসা

যে ভাষা-ই বলি কেন 
আসল কথাটি জেনো 
মাতৃদুগ্ধ সম মাতৃভাষা

ভাষার জন্য লড়ে
প্রাণ বলি দেয় যেরে
তুচ্ছ সব মাতৃভাষা বিনে 

কখনো ভুলি না তারে
বীর ভাষা শহিদেরে
নমি সবে এই শুভ দিনে


 

Wednesday, February 12, 2014

দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধ

ভারত আমার ভারতবর্ষ,                পরাধীনতার হাজার বর্ষ
          পেরিয়ে তুমি স্বাধীন হয়েছো অনেক বছর আগে। 
তবুও মোদের দুঃখ কত,                   লড়ছি সবাই অবিরত,    
           জীবনযুদ্ধে যুঝতে যুঝতে ফুঁসছি মোরা রাগে।
দেশ মাতাকে করে লাঞ্ছনা,               দেশ বাসীকে করে প্রতারণা  
            দস্যুর দল করছে শোষণ সেজে জনতার দাস। 
গান্ধী, সুভাষ, বল্লভ-ভাই,               বীর সেনানীর হিসাব যে নাই;  
            সবার সাধনা নষ্ট করেও মেটেনি তাদের আশ।
ভাইয়ে ভাইয়ে কভু-না মিলে;             মায়ের বোনের চোখের জলে
           পিছল হয়েছে সমাজের পথ অহরহ দিবা-নিশি।
ধর্মে ধর্মে করে হানাহানি,                গরিবের পেটে নাই দানাপানি
         তেলা মাথায় তেল দিয়ে সবে বেনিয়মে চলে ভাসি।       
হয়েছে সময় আবার জাগার              সময় এসেছে ঘুম ভাঙ্গাবার 
           এস লড়ি সবে ঘোচাতে এদেশে দুর্দশা-দুর্নীতি। 
আসবে দ্বিতীয় স্বাধীনতা,                 অমর শহীদ পাবে মান্যতা 
             বিশ্বমাঝে ভারত পাবে সম্মান পরিচতি।