Friday, February 21, 2014

২১-শে ফেব্রুয়ারি

কথা বলি গান গাই
ভাষা ছাড়া গতি নাই
ভাষা হোক তব ভালবাসা

যে ভাষা-ই বলি কেন 
আসল কথাটি জেনো 
মাতৃদুগ্ধ সম মাতৃভাষা

ভাষার জন্য লড়ে
প্রাণ বলি দেয় যেরে
তুচ্ছ সব মাতৃভাষা বিনে 

কখনো ভুলি না তারে
বীর ভাষা শহিদেরে
নমি সবে এই শুভ দিনে


 

Wednesday, February 12, 2014

দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধ

ভারত আমার ভারতবর্ষ,                পরাধীনতার হাজার বর্ষ
          পেরিয়ে তুমি স্বাধীন হয়েছো অনেক বছর আগে। 
তবুও মোদের দুঃখ কত,                   লড়ছি সবাই অবিরত,    
           জীবনযুদ্ধে যুঝতে যুঝতে ফুঁসছি মোরা রাগে।
দেশ মাতাকে করে লাঞ্ছনা,               দেশ বাসীকে করে প্রতারণা  
            দস্যুর দল করছে শোষণ সেজে জনতার দাস। 
গান্ধী, সুভাষ, বল্লভ-ভাই,               বীর সেনানীর হিসাব যে নাই;  
            সবার সাধনা নষ্ট করেও মেটেনি তাদের আশ।
ভাইয়ে ভাইয়ে কভু-না মিলে;             মায়ের বোনের চোখের জলে
           পিছল হয়েছে সমাজের পথ অহরহ দিবা-নিশি।
ধর্মে ধর্মে করে হানাহানি,                গরিবের পেটে নাই দানাপানি
         তেলা মাথায় তেল দিয়ে সবে বেনিয়মে চলে ভাসি।       
হয়েছে সময় আবার জাগার              সময় এসেছে ঘুম ভাঙ্গাবার 
           এস লড়ি সবে ঘোচাতে এদেশে দুর্দশা-দুর্নীতি। 
আসবে দ্বিতীয় স্বাধীনতা,                 অমর শহীদ পাবে মান্যতা 
             বিশ্বমাঝে ভারত পাবে সম্মান পরিচতি।

Monday, January 13, 2014

লেখা-লিখি

অনেকদিন থেকেই ভাবছিলাম আনেকদিন কিছু লেখা হয়নি।কিছু একটা লিখি।কিন্তু কি লিখবো সেটাই ঠিক করতে পারছিলাম না। যারা স্বভাব-লিখিয়ে তারা তো ইচ্ছে হলেই জম্পেশ লিখে ফ্যালে।অনেক-টা মেসে থাকা বেকার ব্যাচেলর ছেলের খাওয়া আর ঘুমোনো-র মতো। 

আজকাল অবশ্য ওইসব স্বভাব লিখিয়েদের সাথে পাল্লা দেওয়ার জন্য, বা ঠিক পাল্লা না দিলেও একটা মোটামুটি প্রতিযোগিতা-য় ফেলে দেওয়ার জন্য কিছু উপায় এসে গেছে। ঠিক-ই ধরেছেন - আমি ওই 'ব্লগ', 'টুইটার', 'ফেসবুক' এইসবের কথাই বলছি।এগুলো-তে লোকে আজকাল ঠিক কি-ই যে না লিখছে তা বলা বা বোঝা খুব মুশকিল।সারা পৃথিবীর কয়েক কোটি মানুষ একসাথে লিখছে, লিখে-ই যাচ্ছে। অবশ্য তাদের বেশির ভাগ পড়ার উপযুক্ত কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে। 

"আমি লিখতে খুব ভালোবাসি। প্রতিদিন প্রায় ৩ ঘন্টা লিখি - মেইন-লি ফেসবুক আর টুইটার-এ"
 

বিভিন্ন গল্প, প্রবন্ধ, ছড়া, কবিতা, গবেষনা, খবর ইত্যাদি তো আছে-ই। মানুষ তার প্রতি মুহুর্তের নানা রকম অভিজ্ঞতা : ভালো লাগা, মন্দ লাগা, ভয় পাওয়া, খানা-পিনা, বেড়ানো, সিনেমা দেখা, গান শোনা, বই পড়া, খেলাধুলো, অসুখ-বিসুখ, সমস্যা- সমাধান, আইন-আদালত, পাপ-পুণ্য, আদেশ-উপদেশ, হাসি-ঠাট্টা, বনধ-হরতাল, আন্দোলন-অবরোধ, কলহ-ঝগড়া, প্রেম-বিরহ, এমনকি হারানো-প্রাপ্তি, বিবাহ-বিচ্ছেদ কিছুই বাকি নেই - বিষয় বৈচিত্রের কোনো শেষ নেই - অফুরান উতসাহে লিখে যাচ্ছে - প্রায় রিয়েল-টাইম।সকালে কাগজওয়ালা কাগজ দেয়নি, বাড়ির ঠিকে ঝি আসেনি, দুধওয়ালা দুধ দেয়নি, অটো-তে দু-টাকা গচ্চা গেছে খুচরো না থাকায়, ট্রাফিক সিগন্যাল-এ গান শুনে মেজাজ বিগড়ে গেছে, নরেন্দ্র মোদী না রাহুল গান্ধী, নাকি অরবিন্দ কেজরিওয়াল - কে এবার প্রধান-মন্ত্রী হবে, অফিস-এ পারফরমেন্স-রেটিং ভাল হয়নি, তাই 'বস'-এর মুন্ডু-পাত, অকারণে ট্রাফিক সিগনালে কেস খাওয়া, সেই কবেই 'ফ্ল্যাট' বুক করেছেন কিন্তু প্রোমোটার এখনো পজেশন দেয়নি, 'ট্রাভেল রেডি' কিন্তু 'অনসাইট অপরচুনিটি' পাচ্ছি না, এরকম আরো কত কিছু - জীবন যাপনের যাবতীয় খুঁটিনাটি - সে যত-ই ছোট বা তুচ্ছ হোক না কেন - সব-ই এখন পোস্ট হয়ে যায়।নানান আচার অনুষ্ঠান-এর নিমন্ত্রন-ও আজকাল অনলাইন-এ হয়ে যাচ্ছে। আমার এক সহকর্মী তো তার বিয়ের সচিত্র ধারাবিবরণী দেওয়া শুরু করেছিলো। রক্ষে যে 'হানিমুন'-এর আগেই তাকে থামানো গেছে। নাহলে গিনেস বুক-এ নাম-টা পাক্কা উঠত; উঠতই।

ক্যামেরা, মোবাইলের বিক্রি-ও হু-হু করে বেড়ে গেছে।ডিজিটাল ক্যামেরা-তে আটকে না থেকে এখন 'এস-এল-আর'-এ মনোনিবেশ করেছে। বেসিক ফোন ছেড়ে স্মার্ট ফোনের বাজার।আগে লোকে বেড়াতে যেত ছুটি কাটাতে, শরীর সারাতে বা নতুন কিছু দেখার নেশায়। এখন অধিকাংশ-ই হয় অনলাইন পোস্ট করার জন্য।আমি কি দেখছি সেটা খুব একটা কাজের কথা নয়, বাকিরা দেখুক আমি কি দেখছি।আমার এক বন্ধু বেড়াতে গেলে তার চোখ হয় ক্যামেরা-তে থাকে নাহলে মোবাইলে। বেচারা চর্মচক্ষে কিছু উপভোগ করার সময়-ই পায় না।

কোনকিছু পোস্ট করলেই নিমেষে তা পৌঁছে যাচ্ছে মাল্টিলেভেল ফ্রেন্ডস নেটওয়ার্ক-এ। অমনি নানান স্বাদের, নানান মাপের, নানান রঙের মন্তব্য আর প্রতি-মন্তব্যে সার্থক হয়ে ওঠে সেটা। প্রচুর 'লাইক', 'শেয়ার', আর 'কমেন্ট' - সাফল্যের সেই আস্বাদ উজ্জীবিত করে, অনুপ্রেরণা দেয় পরের পোস্ট-এর। এর ব্যতিক্রম কি আর নেই? পাড়ার শিবু-দা - তার ভাইপোর অনুপ্রেরনায় বেশ দামী একটা মোবাইল কিনে ফেললো শুধুমাত্র 'ফেসবুক' করবে বলে। আজ্ঞে হ্যা 'ফেসবুক' এখন একটা ক্রিয়াপদ হয়ে গেছে।তা যা বলছিলাম - শিবু-দা তো তার প্রথম পোস্ট করেই ফেলল - বাড়ির পোষা বেড়ালের ছবি ওই মোবাইলের ক্যামেরায় তোলা। কত আশা ছিল সবাই খুব তারিফ করবে। শেষে কিনা মাত্র একটা 'লাইক' - তাও কিনা সেটা তার ওই ভাইপো-র। রাগে, দুঃখে শিবু-দা আর ও-মুখো হননি। ভাইপো অনেক ভাবেই বোঝানোর চেষ্টা করেছে ফ্রেন্ড-লিস্টে ফ্রেন্ড না থাকলে 'লাইক' করবে কে? কিন্তু কে শোনে কার কথা।

কিন্তু এ-কথা-ও ঠিক যে এর ফলে মানুষের মধ্যে লেখালিখির বেশ একটা ঝোঁক তৈরী হয়েছে।আর এর থেকে যে বেশ ভালো কিছুও হতে পারে - সেটা কোনো মতেই অস্বীকার করা যায় না। মানুষ খুব তাড়াতাড়ি অনেক কিছু জানতে পারছে, শিখতে পারছে, বুঝতে পারছে - তার দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মাধ্যমে।অদেখা, অচেনা বহু জন-এর সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ বাড়ে। নি:সঙ্গ মানুষের সময় কাটে কিছুটা বৈচিত্রের মধ্যে। বিপদে, দরকারে সাহায্য চলে আসে দ্রুত। তাই লেখালিখির সমস্ত নতুন মাধ্যম স্বাগত।বেঁচে থাকুক মানুষের লেখার অভ্যেস।

Saturday, December 09, 2006

ইন্দ্রানী

অবশেষে পেলাম খুজে আমার মনের রানী,
নাইবা থাকে ইন্দ্রলোকে সে আমার ইন্দ্রানী.
দিনের কাজে রাতের ঘুমে তাহার যাওয়া আসা
তার টানেতেই হল আমার প্রেম সাগরে ভাসা.
স্বপন তরী ভিড়িয়ে ঘাটে শুধাই আমি তারে
বন্ধু আমি এসে গেছি খুজছো তুমি যারে.
শুনে খানিক হাসলো সেযে টোল ধরিয়ে গালে
বললো আমি পারি যেতে যদি প্রমাণ মেলে.
কতজনেই ডাকে আমায় নাও ভিড়িয়ে ঘাটে
চাইনা আমি হারিয়ে যেতে প্রেমের চোরা হাটে.
সহজ মোটেই নয়কো এপথ আছে প্রচুর ব্যাথা
ফেরাও তোমার নৌকা এবার শোনো আমার কথা.
আমার পথ চেয়ে আছে জ্ঞানী গুনী কত
কেন যাব সাথে তোমার কি'বা আছে অত.
প্রশ্ন কঠিন পাইনা ভেবে কি বলি যে তারে
জ্ঞানের গুনের হিসেব আমার শুন্য একেবারে.
দুঃখ আছে সুখ আছে আছে কান্না ও হাসি
মন্দ আছে ভালো আছে সদাই পাশাপাশি.
সুখের মাঝে রইব মোরা ভাগ করে নেবো ব্যাথা
হৃদয় দিয়ে বাসব ভালো দিলাম তোমায় কথা.

Monday, October 16, 2006

My Trip to America (আমার আমেরিকা যাত্রা)

অবশেষে এসে পড়্ল সেই দিন. বিলুদা-র দেশ-টাকে দেখার একটা ইচ্ছা অনেকদিন ধরেই আমার মনের মধ্যে ঢুলছিলো. আমি নতুন সংস্থায় চাকুরি পাওযার পর তার সেই তন্দ্রা কেটে গেল. হাত পা বেশ টানটান করে ছড়িয়ে আড়মোড়া ভাংলো কয়েকবার.
ওমা বিলুদাকে অচেনা লাগছে নাকি? এইমুহুর্তে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির নাম হল বিল গেটস. আমরা যারা তাকে চিনি (না কখনও চোখে দেখিনি, তার কার্যকলাপ থেকেই তাকে জানি এই যা) সংক্ষেপে বিলুদা বলি.
তারপর মাঝে মাঝেই খালি তাগাদা দিতে থাকতো "এবার ঘুরে এলে হয় না? আর দেরি কিসের তরে?" কি করে বোঝাই তাকে যে কর্মস্থলে আমার ইচ্ছেমত সবকিছু হয় না. সাধ আর সাধ্য দুটো মিললেই না তা হবে. শুনে যেন খানিক হতাশ হত সে. তবে পুরোপুরি দমত না. আবার দ্বিগুন উত্সহে লেগে পড়ত.
এর আগে যে সংস্থাগুলোয় কাজ করতাম তাদের পক্ষে বেশ কঠিন ছিল আমার এই সাধ পুরণের. কর্মস্থল বদলাতে বদলাতে যখন হাপিয়ে উঠেছি তখনি এলাম এখানে. আসার প্রায় চার পাচ মাস পর থেকেই আমাকে বলা হচ্ছিলো এবার নিউ জার্সি যেতে হবে অফিসের কাজে.থাকতেও হবে বেশ কয়েক মাস. আমিও রাজি. এখনও জীবিত (শুনেছি মরদ দুই ধরনের হয়ঃ বিবাহিত আর জীবিত) আছি. তাই কোনো বাধা নেই. পাসপোর্ট তো সেই কবে থেকেই বানিয়ে রেখেছি, যদি কখনো বিড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেড়ে এই ভেবে. কিন্তু সমস্যা হল ভিসা নিয়ে.


আলটিমেটলি ভিসা তো পাওয়া গেলো. কিন্তু তার ভ্যালিডিটি হোলো অক্টোবর থেকে. এখন তো মাত্র জুলাই. যাইহোক হৈহৈ করে অক্টোবর মাস এসে গেলো. পুজোর ঠিক পরেই আমাকে যেতে হবে.

আজ অক্টোবরের চার. ভোর হয়ে গেছে. ট্যাক্সি দ্রুত ছুটে চলেছে বিমানবন্দরের দিকে. সকাল পৌনে আটটায় উড়ান. তিন ঘন্টা আগে চেক্-ইন করতে হবে. পুজোয় গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম. গতকাল রাত্রে কলকাতায় ফিরেছি. মা বাবা পুজোর আগে থেকেই দক্ষিণ ভারত বেড়াতে গেছেন. ফিরতে সেই লক্ষীপুজো. যাইহোক কলকাতায় ফিরেই আমার দুটো ব্যাগ-এ যা যা ধরে এবং যা না নিয়ে গেলে নয় সেগুলো পুরে নিয়েছি. এটাও জানি,অনেক কিছুই ভুলে গেলাম নিতে,যেগুলো আমেরিকা পৌছানর পর মনে পড়বে. পড়বেই.কিন্তু প্যাকিং করার সময় কিছুতেই মনে পড়বে না এটাই রীতি. প্যাকিং শেষ হতেই আমি বাঘাযতীন থেকে কালিঘাটে মেজদি'র বাড়িতে চলে এলাম. দিদি, জামাইবাবু আর কাঞ্চন আমার সাথে ট্যাক্সি'র মধ্যে. কাঞ্চন বাড়ী থেকেই আমার সাথে এসেছে আমাকে আকাশে উড়িয়েই আবার বাড়ী ফিরে যাবে. সবাইকে ছেড়ে যেতে এখন আমার খুব খারাপ লাগছে আমেরিকা যাওযার ইচ্ছেটা কেমন যেন ঝিমিয়ে পড়েছে. আবার কবে সবাইকে দেখতে পাব কবে ফিরব কিছুই ঠিক নেই. কাজের প্রয়োজনে তিন মাস, ছ'মাস, বা এক বছর পর্যন্ত থাকতে হতে পারে.

সমস্ত রীতি নীতি ঘেরা-টোপের বেড়াজাল পেরিয়ে শেষে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ-এর বিমানে চেপে বসলাম. আমার মোবাইলটা ভাইকে দিয়ে যাচ্ছি.